চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ায় গম উৎপাদন কমতে পারে বলে জানিয়েছে গ্রেইন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (জিআইডব্লিউএ)। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে উৎপাদনও প্রায় ১৬ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
জিআইডব্লিউএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর দেশটিতে ৪১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ হতে পারে। গত বছরের ৪৫ লাখ ৯০ হাজার হেক্টরের তুলনায় এ উৎপাদন প্রায় ৯ শতাংশ কম।
সংস্থাটি জানায়, জমি পতিত রাখার চাষ পদ্ধতির ফলে এ বছর চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমেছে। ২০২৪ সালে এসব পতিত জমিতে শস্য বপন করা হয়েছিল। ফলে ২০২৫ সালে সেগুলো আর ব্যবহারযোগ্য থাকছে না। এটি চাষের একটি সাধারণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে জমির উর্বরতা ধরে রাখতে ফসলি জমি পর্যায়ক্রমে পতিত রাখা হয়।
জিআইডব্লিউএ আরো জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে আর্দ্রতা থাকলেও উত্তরাঞ্চল এখনো শুষ্ক। অঞ্চলভেদে এ বৈপরীত্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এল নিনোর প্রভাবে খরা দেখা দিয়েছিল। চলতি বছরও এর প্রভাব থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৯০ লাখ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে মে মাস শুষ্ক ও উষ্ণ হলে জমির পরিমাণ কমে ৮৫ লাখ হেক্টরে নামতে পারে। ২০২৩ সালেও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
তবে বার্লি ও ক্যানোলার উৎপাদন বাড়তে পারে বলে ধারণা দিয়েছে জিআইডব্লিউএ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর ১৮ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে বার্লি চাষ হতে পারে। গত বছরের তুলনায় তা এক লাখ হেক্টর বেশি। একই সঙ্গে ক্যানোলার উৎপাদন বেড়ে হতে পারে ১৭ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০২৪ সালে ১৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে ক্যানোলা চাষ হয়।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদন হয়েছিল। দেশটির ইতিহাসে তা ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ। সাধারণত এপ্রিল-জুনের মধ্যে বপন হয়। ফসল সংগ্রহ করা হয় বছরের শেষভাগে। উৎপাদিত গমের বড় অংশ রফতানি হয় আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছে দেশটিতে গম উৎপাদন কমলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়াতে পারে।